শহরের প্রাণকেন্দ্রে ভাগাড় নয়, সৌন্দর্যের স্থানে ফিরিয়ে আনুন
- আপলোড সময় : ২২-০৯-২০২৬ ০৯:৪২:৩১ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ২২-০৯-২০২৬ ০৯:৪২:৩১ পূর্বাহ্ন
সুনামগঞ্জ শহরের পুরাতন পৌরসভা ভবনের জায়গাটি একসময় ছিল নাগরিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকা-ের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। সেই জায়গায় দৃষ্টিনন্দন মার্কেট, কমিউনিটি সেন্টার ও পার্কিং সুবিধা নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রকল্প প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে জমাও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের অপেক্ষায় থাকা জায়গাটি এখন পরিণত হয়েছে ময়লার ভাগাড়ে। এটি শুধু দৃষ্টিকটু নয়, বরং একটি পরিকল্পনাহীন শহর ব্যবস্থাপনার চিত্র।
শহরের প্রাণকেন্দ্রে প্রতিদিন বাসাবাড়ি ও বিভিন্ন এলাকা থেকে বর্জ্য এনে ফেলা হচ্ছে। দিনের পর দিন এসব বর্জ্য পড়ে থাকায় সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ। ময়লার স্তূপে জন্ম নিচ্ছে মাছি-মশা; বৃষ্টির পানিতে বর্জ্য ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশে। ফলে পরিবেশদূষণের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই বর্জ্যভা-ারের আশপাশেই রয়েছে সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়, বিদ্যালয়ের পুকুর ও হোস্টেল, ঐতিহ্য জাদুঘর এবং শাপলা চত্বরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থান। শিক্ষার্থী, পথচারী ও দর্শনার্থীদের নিয়মিত যাতায়াতের এলাকায় এমন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কোনোভাবেই একটি সুস্থ শহর ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। যে শাপলা চত্বরে মানুষ বিকেলে স্বস্তির সময় কাটাতে আসেন, সেখানেও যদি দুর্গন্ধের কারণে নাকে রুমাল চেপে চলতে হয়, তাহলে নগরের নাগরিক সুবিধা নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক।
পৌর কর্তৃপক্ষ বলছে, পুরাতন পৌরসভা ভবনের জায়গায় বহুতল ভবন নির্মাণের প্রকল্প প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে বর্জ্য স্থানান্তরকেন্দ্র নির্মাণ এবং সলিড ওয়েস্ট ব্যবস্থাপনায় বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের কথাও জানানো হয়েছে।
পরিকল্পনা ও প্রকল্প অবশ্যই প্রয়োজন। কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়নের অপেক্ষায় একটি জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানকে অনির্দিষ্টকাল ময়লার ভাগাড় হিসেবে ব্যবহার করা কোনো গ্রহণযোগ্য সমাধান হতে পারে না।
শহর ব্যবস্থাপনায় সবচেয়ে জরুরি হলো- বর্জ্য কোথায় উৎপন্ন হচ্ছে, কীভাবে সংগ্রহ করা হবে, কোথায় স্থানান্তর করা হবে এবং কীভাবে নিরাপদে প্রক্রিয়াজাত করা হবে - তার একটি সমন্বিত পরিকল্পনা। শুধু একটি জায়গায় ময়লা এনে স্তূপ করে রাখাকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বলা যায় না। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জাদুঘর, জনসমাগমস্থল ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশে এ ধরনের বর্জ্য ফেলা স¤পূর্ণভাবে পরিহার করা উচিত।
সুনামগঞ্জের সৌন্দর্য ও পর্যটন সম্ভাবনা নিয়ে যখন নানা পরিকল্পনার কথা বলা হচ্ছে, তখন শহরের কেন্দ্রস্থলে এমন ময়লার ভাগাড় সেই প্রচেষ্টাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে। দ্রুত পুরাতন পৌরসভা চত্বর থেকে বর্জ্য অপসারণ, বিকল্প ও নিরাপদ বর্জ্য স্থানান্তরকেন্দ্র চালু এবং দীর্ঘমেয়াদি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি।
প্রকল্প কবে অনুমোদিত হবে, কবে ভবন নির্মাণ শুরু হবে - এসবের জন্য অপেক্ষা করতে করতে নাগরিকদের দুর্ভোগ চলতে পারে না। উন্নয়ন শুধু ভবন নির্মাণের নাম নয়; পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও বসবাসযোগ্য নগর নিশ্চিত করাও উন্নয়নের অপরিহার্য অংশ। সুনামগঞ্জ পৌরসভাকে তাই প্রতিশ্রুত প্রকল্পের পাশাপাশি বর্তমান বর্জ্য সংকটেরও তাৎক্ষণিক সমাধান করতে হবে। প্রাণকেন্দ্রের এই গুরুত্বপূর্ণ জায়গাকে ভাগাড় নয়, নাগরিক স্বস্তি ও সৌন্দর্যের স্থানে ফিরিয়ে আনাই হোক এখনকার অগ্রাধিকার।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদকীয়